ঢাকা 7:18 pm, Sunday, 1 November 2026

গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে ভয়ংকর মানব পাচার সিন্ডিকেট: নেপথ্যে গডফাদার শাহীন ওরফে জানু!

স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে রুটে পরিণত করে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর মানব পাচার সিন্ডিকেট। সীমান্তরক্ষী ও স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও মানব পাচারের এই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন আলোচিত গডফাদার শাহীন ওরফে জানু।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রের একক নির্দেশনায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সীমান্তে পাচার করা হচ্ছে।

​যেসব রুট দিয়ে চলছে পাচার: অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার একাধিক সুনির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে এই চক্রটি তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের পান্থুমাই, বাদেশ্বর, প্রতাপপুর, সংগ্রাম পুঞ্জি, নলজুরি এবং জৈন্তাপুর সীমান্তের বিবি হাওর পয়েন্ট অন্যতম।

শাহীন ওরফে জানুর নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেট নিরাপদ রুট হিসেবে এসব পয়েন্ট ব্যবহার করে নিয়মিত বিপুল সংখ্যক মানুষকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পারাপার করাচ্ছে।

​পাচার চক্রের মূল হোতা জানু: স্থানীয় সূত্রের জোরালো দাবি, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আমির হোসেনের ছেলে শাহীন ওরফে জানুই এই মানব পাচার সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী ও গডফাদার। তার ছত্রচ্ছায়ায় সীমান্তে একটি বিশাল বাহিনী সক্রিয় রয়েছে, যারা সীমান্তবর্তী গ্রামের সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পাচার কাজে সহায়তা করতে বাধ্য করছে।

ইতিমধ্যেই জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট দুই থানাতেই জানুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী সচেতন মহলের অভিযোগ, জানুর একক আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের কারণেই সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে।

​প্রশাসনের নীরবতা ও স্থানীদের দাবি:
সীমান্তের এসব সংবেদনশীল পয়েন্টে ক্রমাগত মানব পাচারের ঘটনা ঘটলেও চক্রের মূল হোতা শাহীন ওরফে জানু রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমানা ব্যবহার করে পরিচালিত এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে মূল অভিযুক্ত শাহীন ওরফে জানুকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

তার এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি ধ্বংস করা না গেলে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও চরম হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীন ওরফে জানুর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন সীমান্তে মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শাহীন ওরফে জানুর বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় মানব পাচারসংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানুর বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

গোয়াইনঘাটে পাসের হারে দ্বিতীয় আলীরগাঁও কলেজ, নীরবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা

গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে ভয়ংকর মানব পাচার সিন্ডিকেট: নেপথ্যে গডফাদার শাহীন ওরফে জানু!

আপডেটের সময়: 02:03:47 pm, Tuesday, 13 October 2026

স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে রুটে পরিণত করে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর মানব পাচার সিন্ডিকেট। সীমান্তরক্ষী ও স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও মানব পাচারের এই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন আলোচিত গডফাদার শাহীন ওরফে জানু।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রের একক নির্দেশনায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সীমান্তে পাচার করা হচ্ছে।

​যেসব রুট দিয়ে চলছে পাচার: অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার একাধিক সুনির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে এই চক্রটি তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের পান্থুমাই, বাদেশ্বর, প্রতাপপুর, সংগ্রাম পুঞ্জি, নলজুরি এবং জৈন্তাপুর সীমান্তের বিবি হাওর পয়েন্ট অন্যতম।

শাহীন ওরফে জানুর নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেট নিরাপদ রুট হিসেবে এসব পয়েন্ট ব্যবহার করে নিয়মিত বিপুল সংখ্যক মানুষকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পারাপার করাচ্ছে।

​পাচার চক্রের মূল হোতা জানু: স্থানীয় সূত্রের জোরালো দাবি, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আমির হোসেনের ছেলে শাহীন ওরফে জানুই এই মানব পাচার সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী ও গডফাদার। তার ছত্রচ্ছায়ায় সীমান্তে একটি বিশাল বাহিনী সক্রিয় রয়েছে, যারা সীমান্তবর্তী গ্রামের সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পাচার কাজে সহায়তা করতে বাধ্য করছে।

ইতিমধ্যেই জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট দুই থানাতেই জানুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী সচেতন মহলের অভিযোগ, জানুর একক আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের কারণেই সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে।

​প্রশাসনের নীরবতা ও স্থানীদের দাবি:
সীমান্তের এসব সংবেদনশীল পয়েন্টে ক্রমাগত মানব পাচারের ঘটনা ঘটলেও চক্রের মূল হোতা শাহীন ওরফে জানু রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমানা ব্যবহার করে পরিচালিত এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে মূল অভিযুক্ত শাহীন ওরফে জানুকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

তার এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি ধ্বংস করা না গেলে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও চরম হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীন ওরফে জানুর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন সীমান্তে মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শাহীন ওরফে জানুর বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় মানব পাচারসংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানুর বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।