10:23 am, Tuesday, 15 September 2026

ওবায়দুল কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তির অর্থ পাবেন জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যরা

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:03:20 pm, Tuesday, 15 September 2026
  • 0 Time View

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলার রায় ঘোষণার পর এ আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ৫৫৭ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন। রায়ে মামলার সাত পলাতক আসামিকেই মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

তবে সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাড়া বাকি পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই পাঁচ আসামি হলেন—ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

রায়ে বলা হয়েছে, ওই পাঁচ আসামির সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পরে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের মধ্যে জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে।

যেভাবে এগিয়েছে মামলার কার্যক্রম

এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল কাঠামোয় এনে ঢেলে সাজাবে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ওবায়দুল কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তির অর্থ পাবেন জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যরা

Update Time : 04:03:20 pm, Tuesday, 15 September 2026

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলার রায় ঘোষণার পর এ আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ৫৫৭ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন। রায়ে মামলার সাত পলাতক আসামিকেই মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

তবে সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাড়া বাকি পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই পাঁচ আসামি হলেন—ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

রায়ে বলা হয়েছে, ওই পাঁচ আসামির সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পরে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের মধ্যে জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে।

যেভাবে এগিয়েছে মামলার কার্যক্রম

এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।