ঢাকা 12:12 pm, Wednesday, 16 September 2026

ওবায়দুল কাদের সাদ্দামকে বলেছিল, ‘তোমরা মারো না কেন?’: চিফ প্রসিকিউটর

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের মারধরের জন্য উসকানি দেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাদের সাদ্দামকে বলেছিল, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এভাবে ছাত্রলীগকে নানাভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তবে সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।

বিফ্রিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সারাদেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সরকারের আজ্ঞাবহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যা করেন।

তিনি আরও বলেন, ১১ জুলাই সাদ্দামকে ‘মারো না কেন, মারো’ বলা হয়। এরপরেই ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হন। ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শুধু তাই নয়, ওবায়দুল কাদের এটাও বলেছিলেন যে, এই আন্দোলনকারীদের আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের কারণেই এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি ও সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়ও ছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ে ১৪ দলীয় বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে সব আসামি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেন।

ওবায়দুল কাদেরের আরেকটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি বলেছিলেন—‘শুট অ্যাট সাইট, দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা আছে।’ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, অকেজো ৮ ড্রেজার

ওবায়দুল কাদের সাদ্দামকে বলেছিল, ‘তোমরা মারো না কেন?’: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটের সময়: 03:39:40 pm, Tuesday, 15 September 2026

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের মারধরের জন্য উসকানি দেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাদের সাদ্দামকে বলেছিল, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এভাবে ছাত্রলীগকে নানাভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তবে সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।

বিফ্রিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সারাদেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সরকারের আজ্ঞাবহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যা করেন।

তিনি আরও বলেন, ১১ জুলাই সাদ্দামকে ‘মারো না কেন, মারো’ বলা হয়। এরপরেই ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হন। ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শুধু তাই নয়, ওবায়দুল কাদের এটাও বলেছিলেন যে, এই আন্দোলনকারীদের আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের কারণেই এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি ও সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়ও ছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ে ১৪ দলীয় বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে সব আসামি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেন।

ওবায়দুল কাদেরের আরেকটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি বলেছিলেন—‘শুট অ্যাট সাইট, দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা আছে।’ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।