ঢাকা 4:19 pm, Saturday, 31 October 2026

গোয়াইনঘাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স : ওসি ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ২৫৩ জন গ্রেফতার

সিলেটের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা গোয়াইনঘাটে সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, মাদক দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় থানার প্রতিটি অফিসার অপরাধ দমনে কঠোর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে পুলিশের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় অপরাধী ও অপশক্তিগুলো। খবর নিয়ে জানা গেছে, একটি স্বার্থান্বেষী ও সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র থানার ওসি-সেকেন্ড অফিসার এসআই তানভীর ফয়েজসহ অফিসারদের বিরুদ্ধে অবৈধ ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অপরাধ দমনে পিছপা না হয়ে পুলিশ তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই হতে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৫৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

মাদক মামলায় গ্রেফতার ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানা মূলে ৬১ জন, জিআর সাজা মূলে ১৩ জন, সিআর পরোয়ানা মূলে ৪০ জন, সিআর সাজা ১১ জন, নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন। ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৫১ ধারায় ৯ জন। এছাড়া বিপুল সংখ্যক জিআর ও সিআর পরোয়ানা-রিকল ও অন্যান্যভাবে নিস্পত্তি করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী ২৮টি মামলায় মোট ৩২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২,৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কাফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মদ, ১,৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১.৫ পুড়িয়া গাজা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার অধিক।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চোরাচালান রোধে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা পালন করছে। ১৭টি চোরাচালান মামলায় ২৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় চোরাই পণ্য ও ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে, ৩,১২,৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি আনুমানিক মূল্য ৫,২০,২০০ টাকা, ১,৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা আনুমানিক মূল্য ৯,৫০,০০০ টাকা, ৯,৮৭২ পিস বিভিন্ন কোম্পানীর ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য সামগ্রী, ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ ওয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও প্রসাধন সামগ্রী, ভারতীয় আইফোন, অন্যান্য মোবাইল ফোন ও ব্যাগেজ সামগ্রী, চোরাচালানে ব্যবহৃত ১টি পুরাতন, রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি, ১টি পিকআপ গাড়ি, ১টি ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিঃ চালিত কাঠ ও বার্কি নৌকা, এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের মোটরসাইকেল।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলাকে মাদক, চোরাচালান ও সর্বপ্রকার অপরাধমুক্ত করতে থানা পুলিশ নিরলস কাজ করছে। কোনো চাঁদাবাজ বা অপপ্রচারকারীর বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সীমান্ত অপরাধ দমনে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩২ বছরের কর্মজীবনের ইতি, পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

গোয়াইনঘাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স : ওসি ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ২৫৩ জন গ্রেফতার

আপডেটের সময়: 08:34:15 pm, Tuesday, 22 September 2026

সিলেটের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা গোয়াইনঘাটে সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, মাদক দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় থানার প্রতিটি অফিসার অপরাধ দমনে কঠোর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে পুলিশের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় অপরাধী ও অপশক্তিগুলো। খবর নিয়ে জানা গেছে, একটি স্বার্থান্বেষী ও সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র থানার ওসি-সেকেন্ড অফিসার এসআই তানভীর ফয়েজসহ অফিসারদের বিরুদ্ধে অবৈধ ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অপরাধ দমনে পিছপা না হয়ে পুলিশ তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই হতে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৫৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

মাদক মামলায় গ্রেফতার ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানা মূলে ৬১ জন, জিআর সাজা মূলে ১৩ জন, সিআর পরোয়ানা মূলে ৪০ জন, সিআর সাজা ১১ জন, নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন। ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৫১ ধারায় ৯ জন। এছাড়া বিপুল সংখ্যক জিআর ও সিআর পরোয়ানা-রিকল ও অন্যান্যভাবে নিস্পত্তি করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী ২৮টি মামলায় মোট ৩২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২,৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কাফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মদ, ১,৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১.৫ পুড়িয়া গাজা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার অধিক।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চোরাচালান রোধে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা পালন করছে। ১৭টি চোরাচালান মামলায় ২৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় চোরাই পণ্য ও ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে, ৩,১২,৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি আনুমানিক মূল্য ৫,২০,২০০ টাকা, ১,৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা আনুমানিক মূল্য ৯,৫০,০০০ টাকা, ৯,৮৭২ পিস বিভিন্ন কোম্পানীর ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য সামগ্রী, ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ ওয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও প্রসাধন সামগ্রী, ভারতীয় আইফোন, অন্যান্য মোবাইল ফোন ও ব্যাগেজ সামগ্রী, চোরাচালানে ব্যবহৃত ১টি পুরাতন, রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি, ১টি পিকআপ গাড়ি, ১টি ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিঃ চালিত কাঠ ও বার্কি নৌকা, এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের মোটরসাইকেল।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলাকে মাদক, চোরাচালান ও সর্বপ্রকার অপরাধমুক্ত করতে থানা পুলিশ নিরলস কাজ করছে। কোনো চাঁদাবাজ বা অপপ্রচারকারীর বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সীমান্ত অপরাধ দমনে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।